Likebd.com

একটি বিস্ময়কর ইসলাম কবুলের ঘটনা!

যুদ্ধের এক ময়দান। তখন মুসলমানদের সাথে কাফিরদের ভীষণ যুদ্ধ চলছে। হযরত আলী (রা) জনৈক বিপুল বলশালী শত্রুর সাথে যুদ্ধে মত্ত রয়েছেন। বহুক্ষণ যুদ্ধ চলার পর তাকে কাবু করে ভূপাতিত করলেন এবং তাকে আঘাত হানার জন্য তাঁর জুলফিকার উর্ধ্বে উত্তোলন করলেন।
কিন্তু আঘাত হানার আগেই ভূপাতিত শত্রুটি তাঁর চেহারা মুবারকে থুথু নিক্ষেপ করলো। ক্রোধে হযরত আলীর চেহারা রক্তবর্ণ হয়ে উঠলো। মনে হলো, এই বুঝি তাঁর তরবারি শতগুণ বেশী শক্তি নিয়ে শত্রুকে খন্ড-বিখন্ড করে ফেলে। কিন্তু তা হলো না।
যে তরবারিটি আঘাত হানার জন্য উর্ধ্বে উত্তোলিত হয়েছিল এবং যা বিদ্যুৎ গতিতে শত্রুর দেহ লক্ষ্য করে ছুটে যাচ্ছিল, তা থেমে গেল। শুধু থেমে গেল নয়, ধীরে ধীরে তা নীচে নেমে এল। পানি যেমন আগুনকে শীতল করে দেয়, তেমনিভাবে আলীর ক্রোধে লাল হয়ে যাওয়া মুখমন্ডলও শান্ত হয়ে পড়ল।
হযরত আলীর এই আচরণে শত্রুটি বিস্ময় বিমূঢ়। যে তরবারি এসে তার দেহকে খন্ড-বিখন্ড করে ফেলার কথা, তা আবার কোষবদ্ধ হলো কোন কারণে?
বিস্ময়ের ঘোরে শত্রুর মুখ থেকে কিছুক্ষণ কথা সরল না। এমন ঘটনা সে দেখেওনি, শোনেওনি কোনদিন। ধীরে ধীরে শত্রুটি মুখ খুলল। বলল, ‘আমার মতো মহাশত্রুকে তরবারির নিচে পেয়েও তরবারি কোষবদ্ধ করলেন কেন?’
হযরত আলী বললেন, ‘আমরা নিজের জন্য বা নিজের কোন খেয়াল খুশী চরিতার্থের জন্য যুদ্ধ করি না। আমরা আল্লাহর পথে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য যুদ্ধ করি। কিন্তু আপনি যখন আমার মুখে থুথু নিক্ষেপ করলেন তখন প্রতিশোধ গ্রহণের ক্রোধ আমার কাছে বড় হয়ে উঠল।
এ অবস্থায় আপনাকে হত্যা করলে সেটা আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য হতো না। বরং তা আমার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য হতো। আমি আমার জন্য হত্যা করতে চাইনি বলেই উত্তোলিত তরবারি ফিরিয়ে নিয়েছি। ব্যক্তিস্বার্থ এসে আমাকে জিহাদের পূণ্য থেকে বঞ্চিত করুক, তা আমি চাই না।’
শত্রু বলল, ‘আমি দূর থেকে এতদিন আপনাদের উদারতা, মহানুভবতা ও সত্যনিষ্ঠার কথা শুনেছি, আজ তা নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করার সৌভাগ্য অর্জন করলাম।’
শত্রুটি ভূমি শয্যা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সংগে সংগে তাওবাহ করে ইসলাম কবুল করল।
#শিক্ষা
ইসলাম যুদ্ধ বা তরবারির মাধ্যমে আসেনি। ইসলাম যুগে যুগে এভাবেই তার মহত্ত্ব ও ইসলামী আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিকদের চারিত্রিক মাধুর্য দ্বারাই মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করেছে এবং এখনো করে চলেছে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে তাঁর দ্বীনের পথে কবুল করে নিন।
আমীন।

Helim Hasan Akash

Categories

June 2020
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
June 2020
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930