Likebd.com

রোগীদের জিম্মী করে ঢামেকে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর ব্যবসা!

বিডিলাইভ রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরকে জিম্মী করে প্যাথলেজিসহ নানা টেস্টের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মুমূর্ষ, গরিব ও অশিক্ষিত রোগীগুলোই এসব প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর প্রধান লক্ষ্য। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে তাদের পক্ষ থেকে দালাল নিযুক্ত রয়েছে।দালালদের সাথে হাসপাতালটিতে নিযুক্ত ডাক্তার, নার্স ও আয়ারা জরিত। টেস্টের […]

লাইকবিডি রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরকে জিম্মী করে প্যাথলেজিসহ নানা টেস্টের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মুমূর্ষ, গরিব ও অশিক্ষিত রোগীগুলোই এসব প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর প্রধান লক্ষ্য। এজন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে তাদের পক্ষ থেকে দালাল নিযুক্ত রয়েছে।

দালালদের সাথে হাসপাতালটিতে নিযুক্ত ডাক্তার, নার্স ও আয়ারা জরিত। টেস্টের টাকা ৪০, ৩০, ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল টেস্টের জন্য রোগীকে প্রাইভেট ক্লিনিকের দালালদেরকে ধরিয়ে দিচ্ছেন ডাক্তাররা।

হাসপাতালটিতে সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন কোনো রোগী হাসপাতলটিতে আসলেই বেশ কয়েকজন দালাল তাকে ঘিরে ধরছে। রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজন, এই মূহুর্তে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিতে হবে, এই মূহুর্তে রক্ত লাগবে, ঢাকা মেডিকেলের টেস্ট রিপোর্ট পেতে কয়েক দিন লেগে যাবে, এসব কথার মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

ডাক্তার এসে বেশ কয়েকটি টেস্ট দিচ্ছে। ডাক্তার নিজেই মেডিকের টেস্ট করার জন্য দালালের মাধ্যমে বাইরের কোনো ক্লিনিক ঠিক করে দিচ্ছে। গরিব, অসহায়, টাকা নেই রোগীর কোনো স্বজনের পক্ষ থেকে দাবি করা হলে দালাল আবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছে পার্সেন্টেজির মাধ্যমে কমিয়ে দিতে। ডাক্তাররা ৪০, ৩০ ও ২০ শতাংশ হারে টেস্টের টাকা কমিয়ে দিচ্ছেন।

চলছে রক্ত কেনাবেচা: ঢাকা মেডিকেলের প্রতিটি ওয়ার্ডে চলছে রক্ত কেনাবেচা। প্রতি ব্যাগ রক্তের দাম ১৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। রক্ত কার কাছ থেকে নিবেন সে বিষয়েও ডাক্তাররা দালাল ঠিক করে দিচ্ছেন। কারো রক্তের প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দালালের কাছে তাকে পাঠানো হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালটিতে রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগ থেকে রক্ত দান থেকে শুরু করে রক্তটি হাতে পেতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। এই সুযোগটা নিচ্ছে দালালরা। তারা মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে দ্রুত রক্ত প্রদান করছে। দালালরা এসব রক্ত কোথা থেকে আনছে, কার রক্ত, রক্তের সঠিক ক্রস ম্যাসিং ও প্যাথলজি টেস্ট আছে কিনা সেই বিষয়ে কোনো তথ্য দিচ্ছে না। কর্তব্যরত ডাক্তারও এসব বিষয়ে কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না। রক্ত পাওয়ামাত্র রোগীর শরীরে পুশ করা হচ্ছে।

‘দি প্যাথলজি সেন্টার’ প্রাইভেট ক্লিনিকটির দৌরাত্ম সবচেয়ে বেশি। নবাবকাটারা, নিমতলী, মেইন রোডে অবস্থিত এই ক্লিনিকটির দালাল হাসপাতালটিতে সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি ওয়ার্ডেই এদের দালাল রয়েছে। এই ক্লিনিকটির সাথে ডাক্তারদের সখ্যতাও বেশি।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালটির ২১২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৭ নম্বর সিটে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার এক রোগী ১২ মার্চ ভর্তি হয়। রোগী আসামাত্র দি প্যাথলজি সেন্টার ক্লিনিকটির দালালরা তাকে ঘিরে ধরে। ডাক্তার এসে জরুরি ভিত্তিটে টেস্টগুলো করতে হবে উল্লেখ করে ওই ক্লিনিকটির দালালকে ধরিয়ে দেয়। রক্তের গ্রুপিং টেস্টের মত গুরুত্বপূর্ণ টেস্টটি বাদ দিয়েই গরিব এই রোগীটির কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

গতকাল ১৩ মার্চ ডাক্তার এসে রোগীকে বলে, অপারেশনের জন্য দ্রুত রক্ত লাগবে। আরো কয়েকটি টেস্ট লাগবে। রক্তের জন্য প্রথম প্রয়োজন রক্তের গ্রুপিং করা। রোগীর স্বজনের পক্ষ থেকে ডাক্তারের কাছে রক্তের গ্রুপিংয়ের টেস্টের কথা জানতে চাইলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উত্তর দেয়, গ্রুপিং লাগবে না, অমুক ব্যক্তির কাছে গেলে সব হয়ে যাবে। এরপর উপায় না দেখে তিনি তার কাছ থেকে তিন ব্যাগ রক্ত কিনেন। প্রতি ব্যাগ রক্তের দাম ১৫০০ টাকা।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. খাজা আবদুল গফুর বলেন, কোন বেসরকারী কোম্পানীর লোককে হাসপাতালে দেখলে আমরা তাকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে থাকি। আর আমাদের হাসপাতালে জরুরি রক্ত মল মূত্র পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বাইরে কোন প্রতিষ্ঠানের এখানে কাজ করার সুযোগ নেই।

Originally posted 2017-07-30 03:02:21.

Hasan

I Love likebd.com

Add comment

Categories

June 2020
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
June 2020
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930