একটি শিক্ষনীয় গল্প (মেয়েদের জন্য)

অনেক সময় প্রতিটি
মেয়েকে তাদের মায়েরা সঠিক শিক্ষা দিতে
‘ব্যর্থ হন’ অথবা সুযোগ পাননা। তারমানে এই নয়
যে, সেই মা তার সন্তানকে ভালোবাসেননা।
অনেক ক্ষেত্রে মায়েদের দুরদর্শিতা, ভাবনার
সীমাবদ্ধতা, সামাজিক সংকীর্ণতা ইত্যাদি নানা বিষয়
হতে পারে যে সন্তানকে সঠিক পথের পরামর্শ
দিতে পারেননা তারা । কিন্তু একটি মেয়ের কাছে
তার মায়ের দেয়া শিক্ষার প্রভাব সবচেয়ে বেশি
থাকে বাকি জীবনে।
আজ সময়ের কণ্ঠস্বরের শিক্ষনীয় গল্পে
আমরা এমন একজন মা’কে উপস্থাপন করছি, যে
‘মায়ের’ পরামর্শ/উপদেশ বদলে দিতে পারে
হাজারো, লাখো মেয়ের জীবনের চিত্র।
পারিবারিক অশান্তি, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে নিজেকে
মানিয়ে নিয়ে চলতে না পেরে শেষ হয়ে যাচ্ছে
হাজারো সংসার । নেপথ্যের কারনগুলোর ব্যখ্যায়
উপন্যাস না লিখে বরং আজকের গল্পের মায়ের কথা
জানুন। একজন মেয়ের জীবনেও যদি এই
গল্পের প্রভাবে সুখ আসে তাতেই আমাদের
সার্থকতা —
—————————
ঢাকার একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়তো সুমাইয়া
। একমাস আগেই দু’পরিবারের মধ্যে আলোচনার
মধ্য দিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে যায় তার ।
বিয়ের কিছুদিন পর বাবার বাড়ি বেড়াতে আসলে মা খুব
আগ্রহ ভরে জানতে চায়, ঐ বাড়িতে তার কেমন
লেগেছে ?
কিছুটা গম্ভীর মুখে মাকে জড়িয়ে ধরে মেয়ে
জবাবে বলে-
“আমার ওখানে ভালো লাগেনা। মানুষগুলো কেমন
যেন। পরিবেশটাও আমার ভালো লাগছেনা”।
মেয়ের ভেতর এক ধরনের হতাশা দেখতে পায়
তার মা। দেখতে দেখতে কয়েকদিন কেটে যায়।
মেয়ের চলে যাবার সময় চলে আসে। চলে যাবার
ঠিক আগের দিন মা তার মেয়েকে নিয়ে রান্না
ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর একটি পাতিলে পানি
দিয়ে তা গরম করতে থাকেন। ফাঁকে ফাঁকে
সংসারের নানান খুটিনাটি গল্প চলছিলো মা- মেয়ের ।
একসময় পাতিলের পানি ফুটতে থাকলে মা হাড়িতে
গাজর, ডিম আর কফির বিন দেন। এভাবে বিশ মিনিট পর
মা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। তারপর একটি বাটিতে
গাজর, ডিম এবং কফির বিন নামিয়ে রাখেন। সুমাইয়া অবশ্য
একটু অবাক চোখে ব্যাপারটা লক্ষ করলেও মায়ের
নির্দেশে চুপ থাকে।
এবার মা মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলেন- “
তুমি এখান থেকে কি কিছু বুঝতে পারলে ?
মেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলে- “ আমি দেখলাম
তুমি গাজর, ডিম আর কফির বিন সিদ্ধ করলে মাত্র,
কিন্তু আমি জানিনা এসব দিয়ে কি রান্না করা যায় ! বিস্ময়
গলায় মেয়ে জিজ্ঞেস করে এতদিন তো
দেখিনি এমন অদ্ভুত রেসিপি ।
মেয়ের বিস্ময় চোখের দিকে তাকিয়ে এবার মা
বললেন-“ হ্যাঁ, তুমি ঠিকই দেখেছ। তবে তুমি কি
আরও কিছু লক্ষ্য করনি?”
মেয়ে বলে- “ নাতো – মা,”।
কিছুটা থেমে গভীর স্নেহে মেয়ের কপালে
চুমু দিয়ে মা বলতে শুরু করেন –
“ শোন মা,গাজর মোটামুটি শক্ত ধরনের, ডিম খুব
হালকা আর কফির বিন খুবই শক্ত। কিন্তু যখন এগুলিকে
গরম পানিতে রাখা হল তখন তিনটি জিনিসের তিন রকম
অবস্থা হল। গাজর খুব নরম হয়ে গেল, আর ডিম
শক্ত হয়ে গেল আর কফির বিন সুন্দর ঘ্রান আর
মিষ্টি স্বাদে পানিতে মিশে গেল”।
মেয়ে হ্যাঁ সুচক মাথা নেড়ে জানালো, ‘ এতটুকু
বুঝেছি, গলায় উদ্বেগ, কিন্তু কেন ?
মা এবার দৃষ্টি অন্যদিকে নিয়ে কিছুটা উদাসী গলায়
জানালেন, আমি তোমাকে এখন যে কথাগুলো
বলব, সে ভাবনাটা আমার জীবন থেকে নেয়া।
তোমার মতই একান্নবর্তী এমন একটি পরিবারে
আমি নতুন বৌ হিসেবে যখন এসেছিলাম, তখন
অনেক কিছুই মেনে নিতে দারুণ কষ্ট হচ্ছিলো।
তাই বলে কি, সংসার ছেড়ে দিতাম ?
আমি জানিনা কথাগুলি তোমার কতটুকু উপকারে
আসবে, তবে আমার জীবনকে অনেক প্রভাবিত
করেছিল”।
মা কিছুক্ষন বিরতি দিয়ে বলতে লাগলেন- “তুমি যদি
তোমার স্বামীর বাড়িতে নিজেকে কঠিনভাবে
উপস্থাপন কর তবে, প্রতিকূল পরিবেশের সাথে
তোমার সংঘর্ষ হবে এটাই নিয়ম – তোমাকে দুর্বল
করে ঠিক গাজরের মতই নরম করে ফেলবে তারা,
তোমার ব্যক্তিত্বকে ভেঙে ফেলবে একটা
সময় । আর যদি তুমি নিজেকে নরম-ভঙ্গুর করে
উপস্থাপন কর তবে প্রতিকূল পরিবেশ তোমাকে
অক্টোপাসের মত গিলে ফেলবে , আঘাতের
পর আঘাত এসে তোমার হৃদয়কে একসময় কঠিন
করে ফেলবে ঠিক ডিমের মত।
কিন্তু তুমি যদি তোমার ভালবাসা দিয়ে নিজেকে
প্রতিকূল পরিবেশের সাথে মিশিয়ে দিয়ে তার
অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে নিতে পার তবে পরিবেশ
সুন্দর হয়ে উঠবে। ঠিক যেমন কফির বিন গরম পানির
সাথে নিজেকে মিশিয়ে দিয়ে পানিকে সুস্বাদু আর
চারপাশকে মিষ্টি ঘ্রানে ভরিয়ে দিয়েছে”।
গল্পের শেষটা এখানেই নয়, বরং গল্পের শুরুটা
এখান থেকেই। পরের দিন যখন মেয়েটি তার
স্বামীর বাড়িতে যাচ্ছিল তখন তার ভিতর এক আশ্চর্য
শান্ত ভাব আর এক দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ পাচ্ছিল।”
আমাদের চারপাশের পরিস্থিতি সবসময় অনুকুল থাকবে
এমন প্রত্যাশা বুকে চেপে রাখা আসলে ঠিক নয়।
বরং যেকোন বৈরি পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে
পথ চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে ছোটবেলা
থেকেই। প্রতিকুল পরিস্থিতির মুখে নিজেকে কাবু
না করে বরং র্ধৈয্য ,ভালবাসা ,সহমর্মিতা নিয়ে
পরিস্থিতিকেই কাবু করতে হবে । সুখ সবসময়
নিজেকেই তৈরি করে নিতে হয়।
গল্পের শিক্ষা এখানেই —
গল্প কৃতজ্ঞতা : একটি বিদেশি গল্পের ছায়া
অবলম্বনে।
অনুবাদ কৃতজ্ঞতা – এডমিন, নাসরীন সুলতানা নেহা ।

Originally posted 2016-01-30 08:46:24.

Be the first to comment on "একটি শিক্ষনীয় গল্প (মেয়েদের জন্য)"

Leave a comment

Skip to toolbar