Home / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / কুয়াশা থেকে পানি; স্বপ্ন দেখাচ্ছে মরোক্কোকে

কুয়াশা থেকে পানি; স্বপ্ন দেখাচ্ছে মরোক্কোকে

মরক্কোর একটি এনজিও ও জার্মান ওয়াটার ফাউন্ডেশন মিলে সাহারা মরুভূমির প্রান্তে বুৎমেজগিদা পাহাড়ের ঢালে জাল দিয়ে কুয়াশা ধরে তা থেকে পানি তৈরি করেছেন! ১,২০০ মিটার উচ্চতায় দার সি হমাদ এনজিও একটি বিশেষ প্রকল্প শুরু করেছে।

লক্ষ্য হলো- পানীয় জল সংগ্রহ করা। তাই এ-ধরনের জাল টাঙানো হয়েছে। এই জালে কুয়াশা ধরা পড়ে; জাল বেয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি চুঁইয়ে নীচে গিয়ে জমা হয়।

এনজিও দার সি হমাদ-এর জামিলা বারগাশ বললেন, ”কুয়াশা আসে এদিক থেকে। দেখা যায়, কীভাবে তা ক্রমেই আরো ওপরে উঠছে। অথচ কোথায় পা ফেলছি, তা দেখা যায় না…।”

দক্ষিণ-পশ্চিম মরক্কোর এই এলাকাটি সাহারা মরুভূমির প্রান্তে। এখানে কখনো-সখনো বৃষ্টি হয়, তাও অত্যন্ত কম। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রায়ই খরা হয়। পানি আনার জন্য মানুষজনকে কখনো কখনো দু’তিন ঘণ্টা হাঁটতে হয়। এখানকার মানুষ চাষবাস করে বাঁচেন। কৃষি আর পশুপালন, দু’টি কাজের জন্যেই লাগে পানি। কুয়াশা ধরার প্রকল্প পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারে তাদের।

তিন বছর আগে দার সি হমাদ এনজিও জার্মান ওয়াটার ফাউন্ডেশন বা পানি নিধির সঙ্গে ‘ফগ নেট প্রোজেক্ট’, অর্থাৎ কুয়াশা ধরার জাল প্রকল্প শুরু করে। ইনডাস্ট্রিয়াল ডিজাইনার পেটার ট্রাউটভাইন সেজন্য নানা ধরনের ফাইবার পরীক্ষা করেছেন। যেমন- এই জাল বাতাসে ছিঁড়ে গেলে চলবে না, তা-তে পর্যাপ্ত পানি ধরা চাই, এছাড়া জালগুলো টাঙানো সহজ হওয়া চাই।

জার্মান ওয়াটার ফাউন্ডেশন-এর পেটার ট্রাউটভাইন বললেন, ”একটা রাবারের এক্সপ্যান্ডার নিয়ে, সেটাকে তলায় এখানে আটকে, একটু টেনে ওপরে লাগিয়ে খানিকটা অ্যাডজাস্ট করে নিতে হয়। এবার পুরো কাঠামোটাই শক্ত। পরিষ্কার দেখা যায়, জালটা বাতাসে কীভাবে নড়তে-চড়তে পারবে।”

নতুন কুয়াশা ধরার জালগুলো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ভালোই কাজ করেছে। আগামী বছর বুৎমেজগিদা পাহাড়ের চারপাশে ৩১টি ফগ নেটের একটি বড় গ্রিড বসানো হবে।

জামিলা বারগাশ ও তার এনজিও-র প্রকল্পটি মারাকেশের জলবায়ু সম্মেলনে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

বারগাশ বললেন, ”আমি পরিবেশকে একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে দেখতে ভালোবাসি, শুধু আবর্জনা কিংবা আবর্জনা ফেলার জায়গা বা আমাদের নিজেদের প্রগতির জন্য সম্পদ আহরণের স্থান হিসেবে নয়। সেই প্রগতি নিজেই আজ সংকটে, যা আমরা প্রতিদিন জলবায়ু পরিবর্তনের ধরন থেকে দেখতে পাই।”

প্রকল্পে পাহাড় থেকে গ্রামের বাড়িগুলো অবধি জলের পাইপ বসানোর ব্যবস্থা হয়েছে, যা সুসানে পরিবারের কাজে লাগছে।

অথচ পরের দিনই আবার….কুয়াশা! শুধু গাছপালাতেই নয়….পানির ফোঁটা পাহাড়ের ওপর ফ্রেমে বাঁধা জালগুলোতেও লেগে থাকে। প্রতি বর্গমিটার জাল থেকে ২২ লিটার পানি। নতুন গ্রিড থেকে কুয়াশার দিনে গ্রামের মানুষরা ৩৭,০০০ লিটার পানি পাবেন।

মোহামেদ হামুয়ালির কাছে তার অর্থ- এখনও অনেকদিন কাজ পাওয়া যাবে। তিনি প্রথম পরীক্ষামূলক জালগুলো বসানোতেও সাহায্য করেছিলেন। কুয়াশার যে একটা ভালো দিক আছে, গ্রামবাসীদের সেটা বোঝাতে গোড়ায় তাকে বেগ পেতে হয়েছিল। সকলেরই সন্দেহ ছিল।

মোহামেদ হামুয়ালি বললেন, ”গোড়ায় আমি ভেবেছি, ও-তে কাজ হবে না। ভেবেছি, কুয়াশা থেকে পানি তৈরি করা কি সত্যিই সম্ভব? জন্মে কোনোদিন শুনিনি, কল্পনা পর্যন্ত করতে পারিনি।”

মোহামেদ জলকষ্টেই বড় হয়েছেন। অথচ তার ভাইবোনেদের জন্যে কল থেকে জল পড়াটাই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়াবে। কুয়াশাও আসবে আবার – তবে এবার হয়ত বুৎমেজগিদা পাহাড়ের অধিবাসীরা কুয়াশা দেখে শুধু ভয় পাবেন না, কিছুটা আনন্দও পাবেন।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

Share With

About Hasan

LIkebd Is best place where you share your knowledge. So I want to change this.

Check Also

আসছে ইয়ামাহা ওয়াইজেডএফ-আর১৫ এর নতুন ভার্সন

বিডিলাইভ রিপোর্ট: ইয়ামাহার স্পোর্টস ঘরানার বাইক ওয়াইজেডএফ-আর১৫ এর ভার্সন থ্রি আসছে। নতুন এই ভার্সনে থাকছে বেশ কিছু পরিবর্তন। বাইকটি আরও আকর্ষণীয় হবে।  আর১৫ এর ভার্সন থ্রিতে থাকছে টুইন হেডল্যাম্প। এর আসনেও পরিবর্তন আসছে। এতে স্লিট সিট ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও বাইকটির ফুয়েল ট্যাংকেও অভিনবত্ব থাকবে।নতুন আর১৫ এ থাকছে এলসিডি ডিজিটাল ডিসপ্লে সম্বলিত স্পিডোমিটার। থাকছে গিয়ার [...]

Leave a Reply