শিশুর ‘স্ক্রিন টাইম’ আসক্তির ক্ষতিকর দিক

লাইফস্টাইল Aug 09, 2017 151 Views
Googleplus Pint
noimage

লাইকবিডি ডেস্ক: বর্তমানে শিশুরা প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে শিশুর নানা রকম সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর প্রায় ৮৫ ভাগ মস্তিষ্ক বিকশিত হয়। প্রযুক্তির আসক্তি একজন শিশুর ব্রেইনের সুস্থ বিকাশকে প্রভাবিত করে।

লেখাপড়া, সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন কিংবা সৃষ্টিশীলতা যাই আমরা বলি না কেন বাধাগ্রস্ত হয়, যদি শিশুটি টু-ডাইমেনসনাল (দ্বি-মাত্রিক) জগত নিয়ে অনেক সময় ধরে ব্যস্ত থাকে। এর কারণ হল শিশুটি যখন মোবাইল-ট্যাব বা টিভির পর্দায় বুঁদ হয়ে থাকে তখন তার ব্রেইন রিয়েল ওয়ার্ল্ডের চেয়ে ৮ গুণ কম কাজ করে।

এই আসক্তির ফলে শিশুটি বাইরের জগতকে মানে স্বাভাবিক জগতের চরিত্রগুলোকে সহজ ভাবে নিতে পারে না। শিশুটি ভিন্ন এক জগত আর ভাবনার মধ্যে আটকে থাকে।’

অভিভাবকদের জানা থাকা দরকার শিশুদের ‘স্ক্রিন টাইম’ আসক্তি পরবর্তীতে কতটা ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সামাজিক–যোগাযোগ:
একজন শিশু আরেকজন শিশুর সাথে স্বাভাবিক কথোপকথনের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করে। এর জন্য সময় ও মনোযোগ দরকার। কিন্তু শিশু যদি দিনের অধিকাংশ সময়জুড়ে  ‘ইলেক্ট্রনিক গেজেট’ নিয়ে মেতে থাকে তাহলে একসময় সে নিঃসঙ্গবোধ করবে। তারমধ্যে জড়তা-সংকোচ কাজ করবে।

দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী:
‘স্ক্রিন টাইম’ প্রিয় শিশুদের আরেকটি প্রধান সমস্যা হল, খেতে চায় না। খেলেও খাবারটা এনজয় করে না। শর্ত হিসাবে জুড়ে দেয়, সামনে মোবাইল-ট্যাব বা টিভি  জাতীয় কিছু দিতে হবে। আরেকটি সমস্যা হল শিশুর শারীরিক চলাচল। শিশুটি খেলতে চায় না। দৌড়ঝাঁপ করে না। এই না খাওয়া আর শারীরিক খেলাধুলার অভাবে শিশু মুটিয়ে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়।

লেখাপড়ায় অমনোযোগী:
গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেসব শিশু দিনে দু’ঘণ্টার বেশি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে মেতে থাকে তারা স্বাভাবিক লেখাপড়ায় মনযোগী হতে পারে না। কোন কিছু বুঝতে বা স্কুলের পড়া মুখস্থ করাতে অভিবাবকদের অনেক যুদ্ধ করতে হয়।

ঘুমে অনিয়ম:
শিশুকে ঘুম পারাতেও অভিভাবকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক শিশু ঘুমাতে যেতে বিছানায় মোবাইল বা ট্যাব সাথে নেয়। এই ডিভাইসগুলোর আলো যখন শিশুর চোখে পড়ে তখন তার ব্রেইন দিনের আলো হিসেবে শনাক্ত করে। ফলে শিশুটির ঘুমাতে অনেক দেরি হয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শিশুর স্বাভাবিক বুদ্ধি বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

খিটখিটে ব্যবহার:
টিভি বা ইউটিউবের ভিন্নভাষী চরিত্রগুলোর আচরণ শিশুর মনে প্রভাব বিস্তার করে, বিশেষ করে শিশু যদি কোন ভায়োলেন্স দৃশ্য দেখে তাহলে আরও বিরূপ ধারণা লাভ করে। শিশুটি মনে করে, চিৎকার-ভাংচুর এগুলো স্বাভাবিক আচরণ। এসবের ফলে মেজাজ হয় খিটখিটে, কারো সাথেই স্বাভাবিক ব্যবহার করতে মন চায় না।

Googleplus Pint
Hasan
Administrator
Like - Dislike
Rate this post

পাঠকের মন্তব্য