[ইসলামিক গল্প] ইসলামের ইতিহাসে সর্ব প্রথম মসজিদের অজানা কাহিনী

যে ছবিটি দেখছেন সেটি ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মসজিদ ‘কুবা মসজিদ’। পবিত্র মসজিদে নববীর পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষিণ মদীনার দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ হচ্ছে এই কুবা মসজিদ। হিজরী প্রথম বর্ষে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। পবিত্র হাদীসে কুবা মসজিদের মর্যাদা এবং এর বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি এখানে অজু করে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়বে সে এক উমরাহ হজের সমান সওয়াব লাভ করবে।’
জানা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রতি শনিবার এখানে নামাজ পড়তে আসতেন। তিনি উটে চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটে আসতেন এবং ২ রাকাত নামাজ পড়তেন। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা:) প্রথম এই মসজিদটির সংস্কার করেন। খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ মসজিদটির প্রথম মিনার তৈরি করেন। পরবর্তীতে ৪৩৫ হিজরীতে আবু ইয়ালি আল-হোসায়নি কুবা মসজিদ সংস্কার করেন।
তিনি মসজিদের মিহরাব তৈরি করেন। ৫৫৫ হিজরীতে কামাল আল-দীন আল ইসফাহানি মসজিদে আরও বেশ কিছু সংযোজন করেন। এর পরবর্তী সময়ে ৬৭১, ৭৩৩, ৮৪০ ও ৮৮১ হিজরীতে উসমানী সাম্রাজ্যকালে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। আধুনিককালে সৌদী শাসনামলে হজ্ব মন্ত্রণালয় মসজিদটির দায়িত্ব গ্রহণ করে- যা মূল ডিজাইনে অধিকতর সংস্কার এবং সংযোজন করে। বর্তমান কুবা মসজিদ ইসলামী ঐতিহ্যের পাশাপাশি আধুনিকতম সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি অনন্য স্থাপত্যও বটে। মসজিদটিতে একটি অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গনসহ কয়েকটি প্রবেশ দ্বার আছে। মসজিদের উত্তর দিক মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
বর্তমানে মসজিদে ৪টি মিনার এবং ৫৬টি গম্বুজ রয়েছে। ১১২ বর্গমিটার এলাকাব্যাপী ইমাম এবং মোয়াজ্জিনের থাকার জায়গা, ১টি লাইব্রেরী, প্রহরীদের থাকার জায়গা ও সাড়ে ৪শ’ বর্গমিটার স্থানে ১২টি দোকানে একটি বাণিজ্যিক এলাকা বিদ্যমান। মসজিদে ৭টি মূল প্রবেশ দ্বার এবং ১২টি সম্পূরক প্রবেশ পথ রয়েছে। প্রতিটি ১০ লাখ ৮০ হাজার থার্মাল ইউনিট বিশিষ্ট ৩টি কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র মসজিদকে ঠাণ্ডা রাখছে। ঐতিহাসিক কুবা মসজিদ শ্বেতবর্ণের একটি অনন্য স্থাপত্যকর্ম, যা বহু দূর হতেও দৃষ্টিগোচর হয়।

Originally posted 2016-02-05 18:57:50.

About the Author

Hasan
I Love likebd.com

Be the first to comment on "[ইসলামিক গল্প] ইসলামের ইতিহাসে সর্ব প্রথম মসজিদের অজানা কাহিনী"

Leave a comment

Skip to toolbar