সিক্স প্যাক অ্যাব অধিকাংশ তরুণের কাছেই আকর্ষণীয়

স্বাস্থ্যগত Jul 11, 2018 4980 Views
Googleplus Pint

সিক্স প্যাক অ্যাব অধিকাংশ তরুণের কাছেই আকর্ষণীয়, যার মাধ্যমে পেটের পেশিগুলোতে ভাঁজ ফেলে তৈরি করা হয় আলাদা আকার। নিজের চেহারা যাই থাকুক না কেন, খুব মোটা কিংবা লিকলিকে রোগা টিনএজারদেরও টার্গেট কিন্তু ওই অ্যাবসের উপর। এটা নিয়ে বেশি হইচই শোনা যায় বিনোদন জগতে। এরই প্রভাব আমাদের মধ্যে কমবেশি অনেকেরই উপর পড়েছে।

এই ব্যাপারে আমি কিছু প্রয়োজনীয় তথ্যের উপর আলোকপাত করতে চাই। যারা স্বাস্থ্য সচেতন, সিক্স প্যাক বানাতে চান, সিক্স প্যাক বানানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যায়াম, খাদ্যাভাস ইত্যাদি নিয়েই আজকের এই লেখা।

সিক্স প্যাক বডি বানাতে কি কিখেতে হবে?

সিক্স প্যাক বানানো টা আসলে খাবার এর উপর নির্ভর করে না। তবে যাঁরা মোটা অবস্থায় জিমে গিয়ে পেশি গঠন করতে চান, তাঁদের জন্য থাকে একধরনের খাবার তালিকা। আবার ওজন কম হলেও থাকে আলাদা খাবার তালিকা। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষক আপনাকে পরীক্ষা করে নানা ধরনের ব্যায়াম ও খাবারের তালিকা দেবেন। এটি মেনে চলতে হবে।
তবে যাঁদের উচ্চতার তুলনায় ওজন বেশি, তাঁরা অবশ্যই লাল মাংস, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, তেল বা চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলবেন। এ ছাড়া সকালে চিরতা ভেজানো পানি, বিকেলে পানির সঙ্গে লেবু চিবিয়ে এবং বেশি করে শসা খেতে পারেন। ডিম খেলে কুসুম ছাড়া খেতে হবে।

আপনাকে মাছ, মাংশ, আপেল, ডালিম, লেবু, পেয়ারা বেশি করে খেতে হবে।

এ সম্পর্কিত একটি লেখা: সকালের নাস্তায় রাখুন স্বাস্থ্যকর ৭ টি খাবার

সিক্স প্যাক বডি বানাতে কি কিকরতে হবে?

এক এক জনের শরীরে এক এক রকমের জেনেটিক ফ্যাক্টরের প্রভাব থাকে। সেই অনুযায়ী শরীরের গঠন তৈরি হয়। সিক্স প্যাক করতে চাইলে বেশ পরিশ্রম করতে হবে। এ জন্য নিয়মিত দড়িখেলা, সাইকেল চালনা, সাইড বেলি, আপার-লোয়ারসহ পেটের ৮-১০ রকম ব্যায়াম করতে হয়।

আপনাকে নিয়িমিত জীম করতে হবে। আপনার বুকের পেশি বার্ন করার উপর নির্ভর করে। আপনার প্রচুর পেটের ব্যায়াম করতে হবে। আমি কিছুদিন করেছিলাম + জিম এ যেতাম। আমি ভাল ফল পেয়েছি। আপনাকে একটা ভিডিও দিচ্ছি, এটা যদি ঠিক মত ফলো করতে পারেন, আর যদি তেমন মোটা না হউন, তাহলে আশা করা যায় ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে সিক্স প্যাক করতে পারবেন।।

দৈনিক ৫০-১০০ বার করে বুক ডন দিতে হবে। চিত হয়ে সুয়ে পা চেপে ধরে মাথায় হাত দিয়ে উঠা নামা করতে হবে। পানিতে সাতার কাটতে হবে।

যাঁরা হাতের পেশি বাড়াতে চান, তাঁদের জন্য দরকার হাতের নানা ব্যায়াম। এর ভেতর থাকছে নিয়মিত এক ঘণ্টা করে ডাম্বেল নিয়ে সাত-আট ধরনের কৌশল চর্চা করা। এতে সুন্দর হবে আপনার বাহু বা হাতের পেশির গঠন।

পেশি তৈরি করতে শুরুতেই যোগব্যায়াম করতে হয়। এরপর রয়েছে আরও ব্যায়াম। ডলফিন এক্সারসাইজ নামে পরিচিত একধরনের বিশেষ ব্যায়াম করতে হয়।

আরও পড়ুন: সাত প্রকার ব্যায়াম যা আপনার আকর্ষণীয় দেহ গঠনে ভূমিকা রাখবে

সিক্স প্যাক গঠন করতে ৫টি বিষয় খেয়াল রাখুন:

শরীরের ফ্যাট:

সিক্স প্যাক দৃশ্যমান হবে কিনা তা নির্ভর করে একজন মানুষের শরীরের ফ্যাট এর উপর। ব্যাক্তিভেদে মোটামোটিশরীরের ফ্যাট ১৫% এর নীচে থাকলে পেটের পেশী দৃশ্যমান হয়।

সকালে দৌড়ঝাঁপঃ

আমরা খাদ্য থেকে যে ক্যালরি পাই রাতে ঘুমের মাঝে তার বেশিরভাগ পুড়ে যায়। তাই সকালে খালি পেটে ব্যায়াম করলে আমাদের দেহে যে অতিরিক্ত ক্যালরি চর্বি আকারে জমা থাকে, সেখান থেকে শক্তি সঞ্চারিত হয়। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠেই ৩০ মিনিট কারডিও যেমন, দৌড়/ সাইক্লিং/ দড়ি লাফের ব্যায়াম, ইত্যাদি করলে বাড়তি চর্বি খুব তাড়াতাড়ি ঝরে যায়। দিনের অন্যান্য যে কোন সময়ের তুলনায় সকাল হলো কারডিও করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

না খেয়ে থাকা যাবে নাঃ

অনেকেই মনে করে মুটিয়ে গেলে কম খেতে হয়। তখন তারা না খেয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে দেহে আরো চর্বি জমতে থাকে, যাতে দেহ যখন খাদ্য থেকে বঞ্চিত থাকে, তখন চর্বি পুড়িয়ে প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চারণ করতে পারে!

আমিষ এবং শর্করার অনুপাতঃ

কথায় আছে, সিক্স প্যাক জিমে না, রান্নাঘরে তৈরি হয়। একজন সুস্থ স্বাভাবিক নারীর দিনে ৪৬ গ্রাম এবং পুরুষের ৫৬ গ্রাম আমিষ খাবার খাওয়া উচিত। কিছু খাবারে আমিষের পরিমাণ উল্লেখ করা হলো-

আমাদের প্রচলিত খাদ্যাভ্যাসে শর্করার পরিমাণ আমিষ এবং শাকসবজির তুলনায় অনেক বেশি থাকে, যা পরিহার করা উচিত। সিক্স প্যাক তৈরির জন্য মাছ, মুরগির মাংস, দুধ, ডিম, পিনাট বাটার এবং প্রচুর পরিমানে ফল ও শাকসবজি খেতে হবে। এবং বাদাম, মাছের তেল ইত্যাদি খাবার থেকে প্রয়োজনীয় স্নেহ জাতীয় খাদ্যের চাহিদা মেটাতে হবে।

কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না।

সম্পূর্ণ দেহের ব্যায়াম ও পরিপূর্ণ ঘুমঃ

সিক্স প্যাক দৃশ্যমান করতে সম্পূর্ণ দেহের ব্যায়াম করতে হয়। এজন্য জিমে যাওয়া জরুরি। জিমে গিয়ে প্রশিক্ষক এর নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যায়াম করা উচিৎ। নাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এবং রাতে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

Googleplus Pint
Like - Dislike [kkstarratings]

পাঠকের মন্তব্য