বুধবার , জানুয়ারী 17 2018
Home / স্বাস্থ্যগত / রক্ত সল্পতা একটি মারাত্মক সমস্যা …….

রক্ত সল্পতা একটি মারাত্মক সমস্যা …….

রক্ত সল্পতা একটি মারাত্মক সমস্যা …….
রক্তসল্পতা আসলে একটি অবস্থা যাতে রক্তে
লোহিত কনিকার ‘সংখ্যা’ বা হিমোগ্লোবিনের
পরিমান কমে যায়। হিমোগ্লোবিন প্রোটিন এবং
আয়রনের সমন্বয়ে গঠিত উপাদান যা ফুসফুস থেকে
শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পরিবহনের কাজ
করে।
একজন পূর্ণবয়স্ক মহিলার জন্য রক্তে হিমোগ্লোবিন
১২.১ থেকে ১৫.১ গ্রাম/ডেসিলিটার, পুরুষের রক্তে
১৩.৮ থেকে ১৭.২ গ্রাম/ডেসিলিটার, শিশুদের রক্তে
১১ থেকে ১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার থাকা স্বাভাবিক।
রক্তে হিমোগ্লোবিন এর চাইতে কমে গেলে
রক্তস্বল্পতা রোগে আক্রান্ত হিসেবে ধরে নেয়া
হয়। সাধারণত পুষ্টিহীনতা এবং দেহে আয়রন এবং
ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতির কারণে রক্তস্বল্পতা
রোগ হয়ে থাকে। শরীরে রক্তসল্পতা হলে শরীরের
কোষগুলো কম অক্সিজেন পায় এবং সারা দেহে
দুর্বলতা অনুভুত হয়।
প্রকারঃ শরীরে তিন প্রকার রক্তস্বল্পতা হতে
পারে। আয়রন স্বল্পতা, কপার স্বল্পতা এবং
ভিটামিন বি ১২ স্বল্পতা।
* আয়রন স্বল্পতা হলে দ্রুত চুল পড়ে যাওয়া, ওজন কমে
যাওয়া, গায়ের বর্ণ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, নখের
আকার চামচের আকৃতি ধারণ করা, হতাশায় ভোগা,
দীঘমেয়াদি ক্লানত্মি অনুভব, চুলের রং লালচে হয়ে
যাওয়া কিংবা শুষ্ক হয়ে যাওয়া ইত্যাদি লৰণ ধরা
পড়ে৷ ভিটামিন সি এর অভাব হলে কিংবা
মাত্রাছাড়া কফি পান করলে আয়রণ স্বল্পতার উদ্ভব
হতে পারে। কারন, কফি খাদ্য থেকে পরিমিত
মাত্রায় আয়রণ গ্রহনে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করে৷
নেশাজাতীয় পানীয় পান করলে এই ঝুঁকিটা আরো
প্রকট হয়ে ওঠে। চাল এবং আটা-ময়দাজাত খাবার,
ব্রকলি এবং শিমের আছে এই ঘাটতি পুরণের গুন।
* কপারস্বল্পতাজনিত রক্তস্বল্পতা বছর কয়েক আগেও
রহস্যাবৃত্ত ছিল৷ কপারস্বল্পতাকে আয়রন স্বল্পতা
মনে করে চিকিত্সকরা চিকিত্সা করে কোনো ফল
পেতেন না। মাশরুম, শস্যজাতীয় খাবার, বাদাম
কিংবা শিমের পরিমিত গ্রহন কপারস্বল্পতা
মেটাতে পারে।
* ভিটামিন বি১২ ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা ঘটে
থাকে সাধারনত বয়স চলিশ পার হলে। আয়রন
ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার সেসব লবণ আছে সেসব
লবণের পাশাপাশি জিহ্বায় জালাপোড়া, নাক
দিয়ে মাঝে মধ্যে রক্ত পড়া, ক্ষুধা কমে যাওয়া,
ভয়ানক হারে চুল পড়া ইত্যাদি উপসর্গ ধরা পড়ে।
পরিমানমত পুষ্টিকর খাবার গ্রহন করে এবং
পাতাযুক্ত সবজি খেয়ে এই ভিটামিনের ঘাটতি পুরন
করা যেতে পারে।
লক্ষণঃ
* সব সময় দুর্বল অনুভূত হওয়া রক্তস্বল্পতার প্রথম এবং
প্রধান লক্ষণ।
* শ্বাসকষ্ট সম্পূর্ণ আলাদা একটি রোগ হলেও
রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগের প্রাথমিক
লক্ষণ শ্বাসকষ্ট। যাদের অ্যাজমাজনিত শ্বাসকষ্ট
আছে তারা এই লক্ষনের আওতায় পড়েন না। অল্প
পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা জনিত শ্বাসকষ্ট
রক্তস্বল্পতার লক্ষণ।
* গুরুতর রক্তস্বল্পতার প্রধান লক্ষণ হলো হৃদস্পন্দন
বেড়ে যাওয়া। রক্তস্বল্পতার কারনে হৃদপিণ্ড
পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত দেহে সঞ্চালনের জন্য
পাম্প করতে পারে না। ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।
* দুর্বলতার কারণে মাঝে মাঝেই মাথাঘোরা
মারাত্মক পর্যায়ের রক্তস্বল্পতার লক্ষণ।
* নানান কারনে মাথা ব্যথা হতে পারে। যার কারনে
মাথা ব্যথাকে আমরা তেমন গুরুতর আকারে দেখি
না। কিন্তু নিয়মিত মাথাব্যথা করা, মারাত্মক
আকারে রক্তস্বল্পতার কারন। তাই মাথাব্যাথাকে
অবহেলা করা উচিত না।
* এসময় চামড়ার নিচে রক্ত এবং রক্তের লাল কণিকা
কমে যাওয়ার ফলে ত্বক মাত্রাতিরিক্ত ফ্যাকাসে
হয়ে পড়ে। বিশেষ করে হাতের তালু এবং চোখের
ভেতরের দিক ফ্যাকাসে হয়ে যায়।
* রক্তস্বল্পতার প্রধান কারণ দেহে আয়রনের অভাব।
এই আয়রনের অভাবে অতিরিক্ত চুল পরে যেতে শুরু
করে।
* রক্তস্বল্পতার দরুন রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম দেখা
দেয়। ফলে রক্তস্বল্পতা রোগে আক্রান্ত রোগীর
চলাফেরা এবং হাঁটাচলায় সমস্যা হয়।
* রক্তস্বল্পতা রোগীকে বিষণ্ণতায় ভুগতে দেখা
যায়। সারাক্ষণ দুর্বলতা এবং মাথাব্যথা হওয়ার
কারণে নিজেকে বিষণ্ণ করে ফেলেন তারা।
এছাড়া একই কারণে অল্পতেই রেগে উঠার প্রবণতা
বেশ লক্ষণীয়।
রক্তসল্পতা আমাদের দেশের নারীদের জন্য একটি
ভয়াবহ সমস্যা। কারন আমাদের দেশের বেশিভাগ
নারী এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। তাই এ ব্যাপারে
আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি।

Share With

About Md.ArifurRahman

arifkh090@gmail.com'
I am simple boy...Nating to say

Check Also

আমলকির রসে যত গুনাগুন

আমলকির বহুবিধ গুণ। ত্বক ডিটক্স করার জন্য আমলকির তুলনা হয় না। রক্ত পরিশ্রুতও করে আমলকি। …