অপরাধ নগরবাসীর নিরাপত্তায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ২ মাসে অচল

এক্সক্লুসিভ Jul 11, 2019 668 Views
Googleplus Pint
noimage

এম মিরাজ হোসাইন, বরিশাল থেকে: বরিশাল নগরবাসীর নিরাপত্তায় আড়াই কোটি টাকা ব্যায়ে স্থাপিত ২৬১টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা অচল হয়ে পড়ে আছে। মাত্র দুই মাসের মধ্যে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে ও নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যামেরাগুলো চালু করার দাবী জানিয়েছেন নগরবাসী।

তবে বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগনের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনার লক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্লোস সার্কিট ক্যামেরা(সিসি টিভি) স্থাপন প্রকল্প গ্রহন করা হয়।

স্থানীয় সরকার পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৫ সালের শেষ ভাগে তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্পট গুলোতে ২৬১টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রম শুরু করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যায়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি এগুলো পরিচালনার জন্য পৃথক পৃথক বুথ নির্মাণ করা হয়।

নগরীর নগর ভবন, নগরীর বান্দ রোডে কর ভবনের সামনে, প্লানেট পার্ক সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়, রাজাবাহাদুর সড়ক, শেবাচিম হাসপাতালের সামনে, আমতলার মোড়, রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকা, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা, বাংলাদেশ ব্যাংকের মোড়, সদর গার্লস স্কুল এবং বগুড়া রোড এলাকায়, নগরীর সার্কিট হাউসের সামনে থেকে জেল খানার মোড় পর্যন্ত সদর রোড এবং বিএম কলেজে সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল এ ক্যামেরাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হয়। কিন্তু ২ মাস যেতে না যেতেই অধিকাংশ ক্যামেরা বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে নগরীর নিরাপত্তার বিষয়টি ঢাকা পড়ে যায়।

জানা গেছে, নাইটভিশন সুবিধাসম্পন্ন এসব সিসি ক্যামেরা প্রাথমিকভাবে বিসিসি কর্তৃপক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ করলেও পরে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এর দায়িত্বভার হস্তান্তর করার কথা ছিলো। কিন্তু তার আগেই ৮০ শতাংশ সিসি ক্যামেরার তার(ক্যাবেল) কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি যান্ত্রিক সমস্যাও দেখা দেয় প্রায় ১৫টি ক্যামেরায়। ক্যামেরাগুলো সচল করতে কাজ চলছে। তবে দুর্বৃত্তরা অনেক বেশী পরিমাণ তার কেটে নিয়ে গেছে। যার কারণে প্রায় সব ক্যামেরায় নতুন তার দিয়ে সংযোগ স্থাপন করতে হচ্ছে। এগুলো সচল হতে বেশ কয়েকদিন সময় লেগে যাবে।

নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, নগরবাসীর উন্নয়ন বা নিরাপত্তার জন্য এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। মূলত ঠিকাদারসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের পকেট ভারি করতে এ ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছে।
নগরীর ১৮ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন জানান, সিসি ক্যামের তো দুরের কথা বিসিসির কোন উন্নয়ন মানুষের কাজে লাগেনা। তারা দায়সারাভাবে কাজ করছে। জলাবদ্ধতা, মাসক নিধন, পানি সরবরাহ, সড়ক সংস্কার, সড়ক বাতি, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তেমন গুরুত্ব নেই। ফলে সব কাজেই বেগ পেতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী খান মো: নুরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তার জানা নেই। বিদ্যুৎ বিভাগ ভালো বলতে পারবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো: ওমর ফারুক বলেন, সিসি ক্যামেরা সচলে সদর রোড, জেলা স্কুল মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার লাগানো হয়েছে। সিএন্ডবি রোডের গুলো বাকি রয়েছে। তবে তারও কাজ চলছে।

বরিশাল সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল বলেন, পুরো সিস্টেমের ৮০ ভাগ তারই চুরি হয়েছে। এর ফলে অনেক ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু চালু করা রয়েছে। তবে অল্প দিনের মধ্যেই বাকি ক্যামরাগুলো চালু করা হবে।

তবে সিসি ক্যামেরা ছাড়া পুলিশ নগরীর আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে জানিয়েছেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ কমিশনার(ডিবি) মো. শাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী এর সহযোগিতা নিতে পারে। এছাড়া ক্যামেরা থাকার কারণে দুষ্ট মানুষের মধ্যে ভীতি কাজ করে।

Originally posted 2017-07-23 06:15:54.

[kkstarratings]

BB Links

  • Link :
  • Link+title :
  • HTML Link:
  • BBcode Link:
Googleplus Pint
Hasan (3752)
Administrator
User ID: 1
I Love likebd.com

Comments