এবার বাড়িতে বসেই মিষ্টিমুখ

রান্না-বান্না Nov 20, 2017 292 Views
Googleplus Pint

লাইকবিডি ডেস্ক: ইচ্ছে করলে বাড়িতেও রসগোল্লা বানাতে পারেন। কী ভাবছেন বড্ড কঠিন? মোটেও না। রসগোল্লা বানানোর সহজপাঠ থাকল এই প্রতিবেদনেই।

যা লাগবে:

চিনি, দুধ, লেবু অথবা টক দই, জল, ছাঁকনি এবং পাত্র।

তৈরি প্রণালী:

প্রথমে ছানা তৈরি

ওভেনে একটি প্যান বসান। তাতে লিটারখানেক দুধ ঢেলে দিন। উনুন জ্বালিয় দুধ ফোটানো শুরু করুন। দুধ যত ভাল মানের হবে, ছানা তত খোলতাই হবে। এবার একটি বাটিতে টক দই রাখুন। এক লিটার দুধের জন্য মোটামুটি পোয়া খানেক (২৫০ গ্রাম) মতো টকদই-ই যথেষ্ট।

দুধ ফোটা শুরু হলে টক দইটি ঢেলে দিন। এক্ষেত্রে কেউ লেবু বা ভিনিগারও ব্যবহার করতে পারেন। তবে তাতে রসগোল্লাতে গন্ধ থেকে যাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকে। টক দইয়ের ক্ষেত্রে তাও থাকবে না। ফুটন্ত দুধে টক দই পড়া মাত্র ছানা কাটতে শুরু করবে। চামচ বা খুন্তির সাহায্যে ভাল করে নেড়ে নিন। একটু অপেক্ষা করুন। পুরো জল কেটে গেলে বুঝবেন ছানা তৈরি। মনে রাখবেন রসগোল্লার ছানা বেশিক্ষণ ওভেনে রাখা যাবে না।

এবার পুরো বস্তুটি ছাঁকনিতে ঢেলে দিন। পরিচ্ছন্ন কাপড় ব্যবহার করতে পারেন ছাঁকনি হিসেবে। জল আর ছানা আলাদা হয়ে যাবে। ব্যস ছানা তৈরি হয়ে গেল। তুলে একটি থালায় রাখুন। অথবা কাপড়েই ঝুলিয়ে রাখুন, যাতে ঝল ঝরতে থাকে এবং ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হয়। কিন্তু ছানা ঠাণ্ডা জলে ধোবেন না। মনে রাখবেন, জলে ঢুকলে স্পঞ্জি রসগোল্লা তৈরি হবে। তবে চিরায়ত রসগোল্লা তৈরির জন্য ঠাণ্ডা জল না দেওয়াই ভাল। থালায় রাখলে বা কাপড়ে ঝুলিয়ে রাখলে বাকি যে জল থাকবে সেটাও ঝরে যাবে।

রসের পালা

রসগোল্লার গোল্লার জন্য ছানা লাগবে। তা তৈরি। এবার রসের পালা। এখানেও যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন। নয়তো সবটাই জোলো হয়ে যাবে। প্রথমে একটি পাত্রে জল নিন। তাতে চিনি দিন। অনুপাতটা মাথায় রাখুন। মোটামুটি পাঁচ কাপ জলের জন্য আড়াই কাপ চিনি দরকার। এবার ফোটানো শুরু করুন। মাঝে মধ্যে চামচ দিয়ে নাড়তে থাকুন। অনেকে রসে এলাচের দানা দেন। অনেকে এই ফ্লেভার পছন্দ করেন। যদি আপনিও পছন্দ করেন তবে তা দিতেই পারেন। এই সময় আঁচ বাড়িয়ে নেবেন। মাথায় রাখবেন, রস যেন খুব ঘন না হয়ে যায়।

গোল্লা পাকান

এইবার রসগোল্লা তৈরির সবথেকে শক্ত পর্ব। এতক্ষণে ছানা থেকে সব জল ঝরে গিয়েছে। সেটিকে থালায় তুলুন। এবার এক চা-চামচ মতো সুজি ও চিনি ওই ছানার সঙ্গে ভাল করে মাখিয়ে ফেলুন। অনেকে সুজির বদলে ময়দাও দেন। ছানা ঝুরঝুরে অবস্থায় থাকে। ঠাণ্ডা জলে ধুলে ছানা শক্ত হয়ে যেত। কিন্তু তাতে রসগোল্লাও শক্ত হত। এবার ওই মিশ্রণটাই ভাল করে মাখাতে থাকুন। অনেকটা ময়দা মাখানোর কায়দায়। অনেকেই হাতের তেলো দিয়ে জোরে জোরে ঘষতে থাকেন। তার দরকার নেই। সাধারণভাবেই মিনিট চারেক মাখানোর পরই মণ্ড তৈরি হয়ে যাবে। এবার সেগুলো থেকেই ছোট ছোট অংশ কেটে নাড়ুর মতো বল তৈরি করুন।

মুগ্ধ রসবোধ

ওভেনের উপর রস তো বসানোই ছিল। ফুটন্ত সেই রসে এবার বলগুলি ছাড়তে থাকুন। এই সময় ওভেনের আঁচ যেন বাড়ানো থাকে, তা মাথায় রাখবেন। আর পাত্রের মাথায় একটা ঢাকনা দিয়ে দিন। পাত্রের ভিতর তৈরি হতে থাকুক রসগোল্লা। মিনিট সাত থেকে দশ পরে ঢাকনা খুললেই দেখবেন, ছানার বলগুলো রসে টইটম্বুর হয়ে গিয়েছে। এবার একটু নাড়িয়ে চাড়িয়ে, উপরের পিঠগুলো ঘুরিয়ে দিয়ে ফের ঢাকা দিন। আঁচটা এইসময় একটু কমিয়ে দেবেন। ঢিমে আঁচে আরও বেশকিছুক্ষণ, প্রায় মিনিট পনেরো কুড়ি রেখে দিন। এবার খুলে দেখুন, তৈরি আপনার রসগোল্লা।

কীভাবে বুঝবেন রসগোল্লা তৈরি হয়েছে?

রসের মধ্যে থেকে একটা গোল্লা তুলে এক গ্লাসে জলে ফেল দেখুন। যদি ডুবে যায় তবে আপনার রসগোল্লা তৈরি। এই অবস্থায় গরম রসের মধ্যে বলগুলিকে দীর্ঘক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। প্রায় ছয়-সাত ঘণ্টা রাখা থাকলেই আপনার সাধের রসগোল্লা তৈরি।

Rate this post

BB Links

  • Link :
  • Link+title :
  • HTML Link:
  • BBcode Link:
Googleplus Pint
I Love likebd.com
Hasan (3753)
Administrator
User ID: 1

পাঠকের মন্তব্য