Home / বিবিধ / রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৌকাডুবি’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৌকাডুবি’

লাইকবিডি ডেস্ক: বাংলা সাহিত্য জগতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখার পদচারণা বহুকাল আগে থেকে, তার লেখা সৃষ্টি গভীরভাবে আলোড়িত করে বাংলাভাষাভাষীদের।

নৌকাডুবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তেরোটি উপন্যাসের মধ্যে চতুর্থ উপন্যাস। ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। নৌকাডুবি উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।

কাহিনী সংক্ষেপ:

উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রমেশ। রমেশের বন্ধু যোগেন্দ্র। যোগেন্দ্রর ছোট বোন হেমামালিনী। হেমামালিনী আর রমেশ— দুইজনেই পরষ্পরের প্রতি দুর্বল ছিলো।

আইন পাশ করার সাথে সাথেই রমেশের বিয়ে দিয়ে দেয় তার বাবা। রমেশের জোর আপত্তি কোনো ধোপে টিকেনি। বিয়ে হয় গ্রামের বাড়িতে। বিয়ের পর বউকে নিয়ে বাড়িতে আসার পথে ঘটে বিপত্তি। প্রচন্ড ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বরযাত্রীদের নৌকার বহর। রক্ষা পায় শুধু রমেশ। সাথে রক্ষা পায় কমলা— রমেশের স্ত্রী।

ভাগ্যকে মেনে নিয়ে নতুন স্ত্রীর সাথে সংসার শুরু করতে গিয়ে রমেশ আবিষ্কার করে এই মেয়ে তার নিজের বউ না! ঝড়ের সময় তাদের পাশাপাশি আরো একটি নৌকাডুবি হয়— যার হতভাগী শিকার কমলা।
নীতির গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে গিয়ে রমেশ না পারছিলো এই মেয়েকে ত্যাগ করতে, না পারছিলো ঠিকমত গ্রহণ করতে। ওইদিকে হেমামালিনীর প্রতি তার দুর্বলতা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।

হেমামালিনীর বাসায় রমেশের বিয়ের কথা কেউ জানতো না। বিয়ের পরও রমেশের সেই বাড়িতে যাতায়াত অব্যাহত ছিলো। এই সময়টুকুতে রমেশ আর হেমামালিনীর দুর্বলতা পরিণত হতে থাকে গভীর প্রণয়ে।
আকস্মিকভাবে রমেশের বিয়ের খবর জেনে যায় যোগেন্দ্র। রমেশের সাথে তার পরিবার থেকে সব ধরনের সম্পর্ক ছেদ করা হয়, বন্ধ করে দেয় যোগাযোগ।

কমলাকে নিয়ে রমেশ দূরের পথে পাড়ি জমায়। নতুন করে জীবন শুরু করাই তার লক্ষ্য। কিন্তু নিয়তি যাদের এক সুতোয় গাঁথা তাদের কি আলাদা করা যায় দূরত্বের দেয়াল দিয়ে?

ঘরানার দিক থেকে নৌকাডুবি রোমান্টিক ধাঁচের উপন্যাস। চিরায়ত সামাজিক উপন্যাসও বলা হয়ে থাকে। সামাজিক অসঙ্গতি, কুসংস্কার, দৃষ্টিভঙ্গি এর পরিবর্তে গল্পের উপজীব্য ছিলো ভাগ্যচক্র আর নিয়তির খেলা। মনের কুটিলতা, ষড়যন্ত্র, হিংসা-বিদ্বেষ এর জায়গায় ফুটে উঠেছে মানব-মানবী মনের আদিম এবং সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো।

Share With

About Hasan

LIkebd Is best place where you share your knowledge. So I want to change this.

Check Also

রাতের পর রাত স্বামীর রক্তপানের অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

বিডিলাইভ ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলায় এক মহিলার বিরুদ্ধে স্বামীর রক্তপানের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার সদাইপুর থানা এলাকার অভিজিৎ বাগদির (২২) স্ত্রী সাবিত্রী বাগদি (১৮) সাধনার নামে নিয়মিত স্বামীর বুকের উপর উঠে বসে রক্তপান করত।তাদের ঘরে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মানুষের মাথার খুলি ও হাড়। এমনকী, সাবিত্রীকে প্রতিবেশীরা নগ্ন অবস্থায় বাড়ির চারপাশে ঘুরে বেড়াতে [...]

Leave a Reply