Likebd.com
তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন

বিডিলাইভ ডেস্ক: তৈলাক্ত ত্বক অনেকে পছন্দ করেন না। যদিও ত্বকের সুরক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আবার অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব নানা সমস্যা তৈরি করে। যেকোন বয়সের মানুষেরই এই সমস্যা হতে পারে। যার কারণে হোয়াইটহেডস, ব্ল্যাকহেডস, ব্রণ ও অন্যান্য সমস্যা হয়। সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে সিবাম নামক অতিরিক্ত তেল নিঃসৃত হয়ে ত্বককে তৈলাক্ত করে। যাদের ত্বকের অবস্থা এই রকম […]

লাইকবিডি ডেস্ক: তৈলাক্ত ত্বক অনেকে পছন্দ করেন না। যদিও ত্বকের সুরক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আবার অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব নানা সমস্যা তৈরি করে। যেকোন বয়সের মানুষেরই এই সমস্যা হতে পারে। যার কারণে হোয়াইটহেডস, ব্ল্যাকহেডস, ব্রণ ও অন্যান্য সমস্যা হয়। সিবাসিয়াস গ্ল্যান্ড থেকে সিবাম নামক অতিরিক্ত তেল নিঃসৃত হয়ে ত্বককে তৈলাক্ত করে। যাদের ত্বকের অবস্থা এই রকম তাদের ত্বক চকচকে হয় ও ছিদ্রগুলো অনেক বড় হয়।

তবে সাধারণ ও শুষ্ক ত্বকের চেয়ে তৈলাক্ত ত্বকে বলিরেখা কম দেখা যায়। যার ফলে ত্বকে তাড়াতাড়ি বয়সের ছাপ পড়ে না। ঘরোয়া কিছু উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব-

১. শসা

শসা ত্বককে শীতল করে বলে ফেসিয়াল করার সময় ও স্পাতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এতে ভিটামিন ও মিনারেল আছে যা ত্বকের তৈলাক্ততা, ফোলা ও লাল হয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। একটি শসা স্লাইস করে নিয়ে মুখে ঘষুন। এভাবে সারারাত রেখে দিন। সকালে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন এটা করুন।

২. লেবু
লেবুর রসে সাইট্রিক এসিড আছে যা অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট হিসেবে কাজ করে।এছাড়াও এতে অ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান আছে যা ত্বকের কালো ভাব দূর করে এবং  pH ব্যালেন্স ঠিক করে। অর্ধেক টেবিলচামচ বিশুদ্ধ পানির সাথে ১ টেবিলচামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। কটন বল দিয়ে মিশ্রণটি আপনার ত্বকে লাগান। ১০ মিনিট পর উষ্ণ গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। দিনে একবার এটা ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর রস ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। তাই মুখ ধোয়ে অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার লাগান।

৩. মুলতানি মাটি
মুলতানি মাটি, চন্দনের গুঁড়া, কাগজিলেবুর রস এবং সর তোলা দুধ বা টকদই একত্রে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন ১০-১৫ মিনিট। এতে ত্বকের বাড়তি তেল ও ময়লা বেরিয়ে যাবে। তবে কাগজিলেবুর রস সরাসরি ব্যবহার না করে এটিকে গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে তারপর ব্যবহার করুন। আর চন্দনের পরিবর্তে চাইলে ভিজিয়ে রাখা মসুরের ডাল বেটে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

৪. অ্যালোভেরা
দিনে ৩ বার শুধু অ্যালোভেরা জেল লাগান মুখে। ৫-১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলবেন মুখ। এটি আপনার মুখের তেল শুষে নিবে। অ্যালোভেরা জেলের সাথে ওটমিল মিশিয়ে মিশ্রন বানিয়ে তা দিয়ে স্ক্রাবিং করতে পারেন দিনে ১ বার।

৫. কর্ণ ফ্লাওয়ার
৪/১ টেবিল চামচ কর্ণ ফ্লাওয়ারের সাথে কুসুম গরম পানি মিশিয়ে মাস্ক বানিয়ে নিন। মুথে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক দিনে একবার লাগাতে পারেন।

টিপস:
১. মুখে পাউডার লাগালে অতিরিক্ত তেল দূর হয়।
২. আপনার ব্যাগে সবসময় ওয়াইপস বা ভেজা টিস্যু রাখুন যেন অতিরিক্ত তেল মুছে ফেলতে পারেন।
৩. ঠান্ডা পানির চেয়ে গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে অতিরিক্ত তেল দূর হয়।
৪. ডিমের সাদা অংশ, টমেটো, আপেল, অ্যালোভেরা ইত্যাদির প্যাক ও ত্বকের তৈলাক্ততা দূর করতে পারে।
৫. কসমেটিকস ব্যবহার কমিয়ে দিন।
৬. বেশি বেশি মুখ ধোয়া ত্বকের জন্য মোটেই ভালো নয়। দিনে ২ বার মুখ ধোন।
৭. সাবান ব্যবহার না করা ভালো।
৮. ক্রিম ব্লাশ বা আইশ্যাডো ব্যবহার না করে পাউডার ব্লাশ বা আইশ্যাডো ব্যবহার করুন।

এটা শুনতে একটু বিপরীত মনে হবে যে, তৈলাক্ত ত্বকেরও ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন। আদ্রতা ও তেল দুটি ভিন্ন জিনিস। তৈলাক্ত ত্বকও পানিশূন্য হতে পারে, তাই ত্বকের সুস্থতার জন্য আদ্রতা বজায় রাখা প্রয়োজন। হাল্কা অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

Add comment

Most discussed